‘একজন স্বীকৃত জুলাইযোদ্ধা এমন ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারীর যোদ্ধা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র হোসাইন মোহাম্মদ তামিম প্রকাশ ওরফে তামিম মির্জার ওপর মুখোশ পরে হামলা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ নতুন ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
ঘটনার পরপরই ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন তামিম মির্জা। নাজুক অবস্থায় তিনি বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেললেও আমি আমার পথ থেকে এক ফোটাও নড়ব না। অসম্ভব বাজেভাবে আমাকে মেরেছে। হয় ছাত্রদল না হয় ছাত্রলীগ নতুন ব্রিজ এলাকায় আমার ওপর হামলা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেললেও আমি দেশের পক্ষে কথা বলা ছাড়ব না।’ বর্তমানে তামিম মির্জা চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রামের তরুণ সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদেরকে এ ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিতে দেখা যায়। তারা নতুন ব্রিজ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ সময় জুলাই আন্দোলন চলাকালে তামিম মির্জার বিভিন্ন মিটিং-মিছিলের ছবি শেয়ার দিতে দেখা যায় তরুণদের।
জানা গেছে, তামিম মির্জার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নে।
বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ জুনাঈদ নয়া দিগন্তকে জানান, বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তামিমের বাড়ি। সে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র। তামিম ভীষণ সাহসী ছেলে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার অবদান সম্পর্কে সবাই অবগত। তার ওপর এভাবে হামলা করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে এই ঘটনায় তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘একজন স্বীকৃত জুলাইযোদ্ধা এমন ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
















