মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর ব্যাপক হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চালানো এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলে।
প্রথম দফার হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এবং তেল-গ্যাস অবকাঠামোতেও আঘাত হানা হয়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সামরিক ও বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
সংঘাত দ্রুত লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলার পর পাল্টা আক্রমণে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, তারা সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও এই সংঘাতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েল ইরানকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়।
এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে।
যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলে যুদ্ধ কমিয়ে আনা হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
















