‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরে এনসিপি-এর শর্ত: ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাতিল ও গণভোটের দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে’ স্বাক্ষর করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কয়েকটি কঠোর শর্ত পেশ করেছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই শর্তগুলো জানান।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এনসিপি-এর প্রধান শর্তসমূহ
এনসিপি মূলত দুটি প্রধান শর্তের ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে রাজি:
১. ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাতিল: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) বলে কোনো বিষয় রাখা যাবে না। অর্থাৎ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভিন্নমত বা দ্বিমতের সুযোগ থাকবে না।
২. সংবিধান সংস্কারে গণভোট: সংবিধান সংস্কার বিষয়ে ঐক্যমত কমিশনের যে সিদ্ধান্তগুলো আসবে, সেগুলো অবশ্যই গণভোটে যেতে হবে। জনগণের রায় অনুযায়ী সেই পরিবর্তনগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গণভোটে অনুমোদিত বিষয়গুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈধতার ভিত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
এনসিপি-এর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অবস্থান
নাহিদ ইসলাম তাদের জোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন:
- জোটের নীতি: “সংস্কারের বিপক্ষে থাকা বা ইতিহাসে দায়ভার রয়েছে এমন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপি’র কোনো জোট হবে না।”
- নির্বাচনের রোডম্যাপ: আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
- নির্বাচনকালীন সরকার: তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না; বরং ড. ইউনূসের নেতৃত্বে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এনসিপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছে:
- স্বেচ্ছাচারিতা: নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে তাদের ‘শাপলা’ প্রতীক না দেওয়া কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত।
- আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে রাজনৈতিকভাবে এই প্রতীক আদায় করতে হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
- ষড়যন্ত্র: তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে ঘিরে ফ্যাসিবাদী শক্তি ষড়যন্ত্র করছে এবং এনসিপি’র কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্যই প্রতীক দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মন্তব্য করেন যে, আওয়ামী লীগ ও ভারতের আধিপত্যবিরোধী রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবে না এবং চাঁদাবাজি বন্ধেও তারা নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। তিনি জানান, এনসিপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী দল হিসেবে অংশ নিতে চায়।















