ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রণক্ষেত্র গোপীনাথপুর গ্রাম; ১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও আহত ১১
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা যখন কোলাকুলিতে ব্যস্ত হওয়ার কথা, তখনই গ্রামের ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই ঘটনায় ওহিদুর রহমান নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং আরও ১০ জন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে। সেই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেও টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ একদফা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এরপর আজ ঈদের সকালে পুনরায় তারা সংঘাতের পথে হাঁটে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা পলাশ সাহা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তারের এই পুরনো বিরোধে ঈদের মতো পবিত্র দিনেও সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে এবং বাড়িঘর থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংঘর্ষ কবলিত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ঈদের দিনে এমন নজিরবিহীন সহিংসতায় পুরো গোপীনাথপুর গ্রামে এখন উৎসবের বদলে আতঙ্কের ছায়া বিরাজ করছে।
















