চট্টগ্রাম বন্দরে বর্ধিত মাশুল নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বন্দর বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাড়া পেয়ে তারা এখন বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সমঝোতার পথে অগ্রগতি
- আলটিমেটাম প্রত্যাহার: গত ১৮ অক্টোবর পোর্ট ইউজার্স ফোরাম বর্ধিত ও ‘অযৌক্তিক’ মাশুল প্রত্যাহারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সাড়া পেতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়েছিল, অন্যথায় বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ১৯ অক্টোবর থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও প্রতিদিন চার ঘণ্টা কর্মবিরতি শুরু করেছিল।
- প্রধান উপদেষ্টার সাড়া: আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেওয়ার পর তিনি একটি পক্ষকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
- বৈঠকের সিদ্ধান্ত: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর বন্দরের চেয়ারম্যান আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বন্দর ব্যবহারকারী সকল পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।
- আশা: ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি ‘যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত মাশুল’ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
কর্মসূচি প্রত্যাহারের কারণ
আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্ধিত মাশুল আরোপের প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চার ঘণ্টার কর্মবিরতিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমরা চাইনি চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো ক্ষতি হোক।”
তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছি।” তিনি অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনকে অনুরোধ করেন, বন্দরের কোন কোন খাতে মাশুল বেশি হয়েছে, সেই তালিকা ফোরামকে জানাতে, যাতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত ট্যারিফ নির্ধারণ করা যায়।
মতবিনিময় সভার আলোচ্য বিষয়
‘চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরাম’ কর্তৃক আয়োজিত এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক প্রসারে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা। এর মধ্যে ছিল:
- ওজন স্কেল (Weight Scale) সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা।
- বন্দর ট্রাফিকের সমস্যা।
- চিটাগং চেম্বারকে জবাবদিহিমূলক ও ব্যবসায়ীবান্ধব করা।
সভায় বিজিএমইএর পরিচালক এমএ সালাম, চেম্বারের সাবেক সভাপতি সরওয়ার জামাল নিজামসহ শিপিং, সিঅ্যান্ডএফ এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা বক্তব্য দেন।
















