১৭ বছর পর স্বাধীন ভোটাধিকার; হেভিওয়েট প্রার্থীদের জয়োল্লাস ও প্রত্যাশা
রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক নতুন ভোরের প্রতীক্ষায় আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট যুদ্ধে নেমেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে ভোট দিচ্ছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার। এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ ভোটাররাই মূলত মূল শক্তি বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বড় বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা এখন প্রায় পাঁচ কোটি। বিশাল এই জনশক্তিই আগামীর ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত ও সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভোট প্রদান ও প্রতিক্রিয়া:
তারেক রহমান (বিএনপি চেয়ারম্যান): সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি। কড়া নিরাপত্তার মাঝে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন । কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে যান বিএনপি চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী): মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।” ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব, বিএনপি): ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, আজ থেকেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হলো। বাংলাদেশের মানুষ এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি): জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা সকাল ৮টার দিকে বাড্ডার এ কে এম রহমতউল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন এবং নতুন প্রজন্মের বিজয়ের ঘোষণা দেন।

মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস): তিনি মোহাম্মদপুরের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে রিকশা প্রতীকে প্রথম প্রহরেই ভোট প্রদান করেন।

নুরুল হক নুর (সভাপতি, গণঅধিকার পরিষদ): ৩৩ বছর বয়সে পটুয়াখালী-৩ আসনে জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে তিনি এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ভোট দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসনে। ভোট প্রদান শেষে হাসনাত সাংবাদিকদের জানান, বিজয়ে তিনি আশাবাদী। তবে তাকে পরাজিত করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে।

সারজিস আলম: পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবীহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি উৎসবমুখর পরিবেশে ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক শাপলা কলি ও গণভোটে হ্যাঁ তে ভোট দিয়েছি। হাজারো শহিদের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশে পরিবর্তনের আশায় ভোট দিলাম।

ভোটের ময়দানে আলোচিত কিছু তথ্য: এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন আলোচিত প্রার্থী নিজেদের আসনে ভোট দিতে পারছেন না, কারণ তারা সেই আসনের ভোটার নন।
ঢাকা-৮ আসনের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৯ আসনের ডা. তাসনিম জারা এবং ঢাকা-১৩ আসনের ববি হাজ্জাজ অন্য এলাকার ভোটার হওয়ায় নিজের প্রতীকে সিল মারার সুযোগ পাচ্ছেন না। একই অবস্থা ভোলা-১ আসনের আন্দালিব রহমান পার্থের, যিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার।
















