ভারতের অ্যাসিড হামলা থেকে বেঁচে ফেরা এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী শহীন মালিক দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালে কর্মস্থলের বাইরে তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর তিনি ২৫টি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এবং একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পরও নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের খালাস দিলে তিনি সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
শহীনের লড়াই এখন শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও। তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন, যাতে জোর করে অ্যাসিড পান করানো ভুক্তভোগীদেরও প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের আওতায় আনা হয়। বর্তমানে আইনে কেবল বাহ্যিক বিকৃতি হলে তাকে অ্যাসিড হামলার শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ক্ষতির শিকারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এমনই একজন ভুক্তভোগী রুমান। ২০১৯ সালে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় স্বামী তাকে মারধর করে অ্যাসিড পান করান বলে অভিযোগ। তার খাদ্যনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কৃত্রিমভাবে পুনর্গঠন করতে হয়। বহু চিকিৎসার পরও তিনি ঠিকমতো খেতে পারেন না। তার ওজন মাত্র ২১ কেজি। তবুও আইনি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সুবিধা পাচ্ছেন না।
২০২১ সালে শহীন মালিক ও আরেক অ্যাসিড হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কর্মী লক্ষ্মী আগরওয়াল মিলে একটি সহায়তা সংস্থা গড়ে তোলেন, যা আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেয়। দিল্লিতে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী বাস করেন। সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অনেকের জন্য এটি একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়।
ভারতে অ্যাসিড হামলার মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শত শত মামলা বিচারাধীন থাকলেও নিষ্পত্তির হার খুবই কম। একই সময়ে হামলার সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলোকে প্রতিবছর অ্যাসিড হামলার তথ্য, বিচারাধীন ও নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার বিবরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত হামলাকারীদের সম্পত্তি নিলামে তুলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলেছে।
শহীনের অভিযোগ, আইনে বিনা মূল্যে চিকিৎসার বিধান থাকলেও বাস্তবে অনেক হাসপাতাল আদালতের নির্দেশ ছাড়া রোগী ভর্তি নেয় না, ফলে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও অ্যাসিড কেনা এখনো সহজ।
সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যও বড় বাধা। সম্প্রতি তার সংস্থার কার্যালয় সরাতে বলা হয়েছে, কারণ অনেকে অ্যাসিড হামলার শিকারদের অশুভ মনে করেন বা তাদের মুখ দেখে অস্বস্তি বোধ করেন। তবুও শহীন মালিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—তিনি থামবেন না। তার লক্ষ্য, ভুক্তভোগীরা যেন সমাজে সম্মান ও ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে আর কেউ যেন একই পরিণতির শিকার না হয়।
















