দক্ষিণ সুদানে সরকারপন্থী বাহিনী ও সুদান পিপলস লিবারেশন আর্মি-ইন-অপোজিশন অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে সংঘাত ও বিমান হামলার কারণে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি শুধু জংলেই রাজ্যেই।
লেকস রাজ্যের একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আজোক ডিং দুয়ত জানান, পরিবার নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এলেও সেখানে খাবারের তীব্র সংকট। বেঁচে থাকতে তারা বুনো ফল ও বাদামের ওপর নির্ভর করছেন। তার ভাষায়, লড়াই কেন হচ্ছে তা তারা জানেন না, তবে মানবিক সংস্থাগুলো ছাড়া আর কেউ তাদের পাশে নেই।
ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির পরও দেশটি এখনো স্থিতিশীল হতে পারেনি। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি মানুষ জীবনরক্ষাকারী সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে সহায়তাবাহী বহরে হামলা ও লুটপাটের কারণে মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আপার নাইল রাজ্যের বালিয়েত কাউন্টিতে সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সরকারের বিরুদ্ধে সহায়তাকারী সংস্থায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তথ্য মন্ত্রী আতেক ওয়েক আতেনি। তিনি দাবি করেন, সরকার মানবিক সহায়তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং বিদ্রোহীরাই হামলা চালাচ্ছে। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের সমর্থক সন্দেহে কিছু এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, জংলেই রাজ্যে তাদের পরিচালিত একটি হাসপাতাল বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পিয়েরি এলাকায় আরেকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র লুটপাটের শিকার হয়েছে। ফলে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত এক বছরে তাদের পরিচালিত স্থাপনায় এটি দশম হামলা।
জংলেইয়ের বোর এলাকার এক বাস্তুচ্যুত শিবির থেকে জানা গেছে, পালানোর সময় অনেক নারী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আগের গৃহযুদ্ধেও যৌন সহিংসতা যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে, সহিংসতা বাড়লে এ ধরনের অপরাধ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ, সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপদ ও টেকসই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ খুলে দেওয়ারও দাবি জানান।
















