ম্যালওয়্যার ও ডেটা চুরি রুখতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
বর্তমান সময়ে যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যাংকিং—সবকিছুর মূল কেন্দ্রবিন্দু স্মার্টফোন। তবে এই ডিভাইসে ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক তথ্যের সহাবস্থান একে সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করেছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত ফোনে অফিসের কাজের অনুমতি দেওয়ায় ডেটা চুরির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্মার্টফোন হ্যাক হওয়া মানে কেবল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারানো নয়, বরং আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধূলিসাৎ হওয়া। হ্যাকাররা সাধারণত ফিশিং লিংক, ভুয়া অ্যাপ, অসুরক্ষিত পাবলিক ওয়াই-ফাই কিংবা সিম-সোয়াপিংয়ের মতো কৌশলে ফোনে অনুপ্রবেশ করে। এমনকি ‘জিরো-ক্লিক এক্সপ্লয়েট’ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী কিছু না করলেও ফোন হ্যাক হতে পারে।
ফোন হ্যাক হওয়ার লক্ষণসমূহ: আপনার ফোনটি হ্যাক হয়েছে কি না তা বোঝার জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে নজর দিন:
- ব্যাটারি অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হওয়া এবং ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া।
- মোবাইল ডেটার ব্যবহার হুট করে বেড়ে যাওয়া।
- ফোনে নিজে থেকে অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল হওয়া বা অদ্ভুত পপ-আপ বিজ্ঞাপন আসা।
- সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা যাওয়া।
সুরক্ষায় ৭টি কার্যকর পদক্ষেপ:
১. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন: শক্তিশালী পিন বা ফেস লকের পাশাপাশি সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন।
২. অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর: থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট বাদ দিয়ে কেবল গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
৩. ভিপিএন ব্যবহার: ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় অবশ্যই ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন।
৪. রিমোট লক সুবিধা: ফোন হারিয়ে গেলে দূর থেকে ডেটা মুছে ফেলার অপশনটি (Find My Device) সক্রিয় রাখুন।
৫. অ্যাপ পারমিশন চেক: কোনো অ্যাপ অকারণে ক্যামেরা বা কন্টাক্ট লিস্টের পারমিশন চাইছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
৬. সফটওয়্যার আপডেট: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন।
৭. অপ্রয়োজনীয় তথ্য বর্জন: ফোনের নোটপ্যাডে পাসওয়ার্ড লিখে রাখা বা কার্ডের তথ্য সেভ রাখা থেকে বিরত থাকুন।
ফোন হ্যাক হয়েছে বলে সন্দেহ হলে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। প্রয়োজনে ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট দিন।
















