ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে সিডনিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সহিংস সংঘর্ষের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যদিও পুলিশ ও সরকার তাদের অবস্থান রক্ষা করেছে।
সোমবার রাতে সিডনির টাউন হল এলাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের সময় তাদের ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন বলেন, পুলিশ ‘অসাধারণ সংযম’ দেখিয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয় আইজ্যাক হার্জগ-এর অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিবাদে। সফরের আগে বিক্ষোভকারীরা আদালতে পুলিশের আরোপিত সীমাবদ্ধতা বাতিলের চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে তা ব্যর্থ হয়। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের জমায়েতের অনুমতি থাকলেও মিছিল করার সুযোগ ছিল না।
সরকারের ভাষ্য, বন্ডাই বিচে ঘটে যাওয়া এক ইহুদিবিরোধী বন্দুক হামলার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতেই হার্জগকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই হামলায় এক শিশুসহ ১৫ জন নিহত হন। তবে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো এই সফরের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যদিও পুলিশের হিসাবে সংখ্যা ছিল ছয় হাজার। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাধিক দফা শারীরিক সংঘর্ষ হয় এবং নামাজরত কিছু মুসলিম পুরুষকে টেনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপের জশ লিস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি তার দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দমনমূলক পরিস্থিতি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স পুলিশের পক্ষ নিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষকে ‘অসম্ভব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেখে পুরো ঘটনা বিচার করা ঠিক নয়। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সহিংস ও উসকানিমূলক আচরণ করছিল এবং পুলিশ সংখ্যায় পিছিয়ে ছিল।
বিক্ষোভে ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যও অংশ নেন। লিন্ডা ফাইনবার্গ নামে এক ইহুদি বিক্ষোভকারী বলেন, হার্জগকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তে তিনি ক্ষুব্ধ। আরেক বিক্ষোভকারী সিহাল জামিলা বলেন, একজন মা হিসেবে ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস গ্রিনস দলের এমপি অ্যাবিগেইল বয়েড অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে তিনি আহত হন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সংঘর্ষের দৃশ্য দেখে হতাশা প্রকাশ করলেও হার্জগকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বলেন, সহিংসতা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এদিকে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল নামাজরত মুসলিমদের সঙ্গে পুলিশের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে আরেকটি বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হার্জগের সফর নিয়ে বিরোধিতা আরও তীব্র হয় জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের কারণে, যেখানে কিছু ইসরায়েলি নেতার বক্তব্যকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। হার্জগ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটিকে বিকৃত ও মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছে।
















