ভারতের মুম্বাইয়ে একটি উষ্ণ ও বাতাসভরা রবিবারে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম যেন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রূপ নিয়েছিল। আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেমে হারলেও নেপাল দলের সমর্থকেরা গানে, নাচে আর উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন।
৩৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষম ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণায় লাল ও নীল রঙের জার্সিতে ঢেউ তুলেছিলেন হাজারো নেপালি সমর্থক। নিজেদের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে তারা আপন করে নেন ওয়াংখেড়েকে।
স্ট্যান্ডজুড়ে টানানো ‘ফিল দ্য থ্রিল’ লেখা ব্যানার যেন পুরো দিনের আবহ তুলে ধরেছিল। ঢোলের তালে তালে নেপালি সুর, স্লোগান আর উল্লাসে মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক অনন্য ক্রিকেট উৎসব।
মুখে পতাকা আঁকা শিশু থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা টুপি পরা বয়স্ক সমর্থক—সব বয়সের মানুষই হাজির হন নেপালি সংস্কৃতির রঙে রাঙানো এই ম্যাচ উপভোগ করতে।
মাঠের লড়াইয়েও নেপাল স্মরণীয় এক পারফরম্যান্স উপহার দেয়। শেষ বল পর্যন্ত টিকে থেকেও মাত্র অল্প ব্যবধানে হার মানে তারা। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও সাহসী ব্যাটিং আর লড়াকু মানসিকতায় ম্যাচ জমিয়ে তোলে নেপাল।
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লোকেশ বাম, রোহিত পাউডেল ও দীপেন্দ্র সিং আইরির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায়।
কাঠমান্ডু থেকে আসা সমর্থক সুবোধ ঢাকাল বলেন, জয় খুব কাছেই ছিল। অভিজ্ঞতার অভাবেই শেষ পর্যন্ত পারা গেল না। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা আসবে, তবে দল দারুণ খেলেছে। স্ত্রীকে নিয়ে মাত্র দুই দিনের সফরে তিনি ম্যাচটি দেখতে আসেন।
একইভাবে কাঠমান্ডু থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা সত্যম পোখরেল জানান, নেপালের বাকি ম্যাচগুলোও ওয়াংখেড়েতেই দেখার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ম্যাচটি খুব কাছাকাছি ছিল, দল নিয়ে তিনি গর্বিত এবং সামনে আরও ভালো করার সামর্থ্য নেপালের আছে।
শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নেপালের লড়াই নতুন নয়। বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন ম্যাচের সিরিজে হারায়। ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র এক রানের জন্য অঘটন ঘটাতে পারেনি।
অনেক সমর্থকের জন্য মাঠে পৌঁছানোর যাত্রাটাও ছিল স্মরণীয়। দূর পশ্চিম নেপালের টিকাপুর থেকে ভুবন রাওয়াল তিন দিন বাসে চড়ে মুম্বাইয়ে আসেন।
২৬ বছর বয়সী ভুবন বলেন, সময় বা খরচ কোনো বিষয় নয়। বিশ্বকাপে নেপালকে খেলতে দেখা জীবনে একবারই আসে। তিনি জানান, নেপাল থেকে দুই থেকে তিনশ সমর্থক একসঙ্গে ম্যাচটি দেখতে এসেছেন এবং এখন মুম্বাই তাদের দ্বিতীয় ঘর।
ভুবনের মতে, ছোট দেশ হলেও নেপাল শুধু অংশ নিতে আসেনি। তিনি বলেন, কোনো দলই এত ছোট নয় যে বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না।
















