বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতাকে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখছেন তৌহিদ হোসেন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ কে ঘিরে সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গভীর পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ে বিদেশিদের পাশাপাশি সরকার নিজেও উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রোববার ঢাকায় কূটনৈতিক রিপোর্টারদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি ‘জিরো-সাম’ গেম হওয়ায় রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের মধ্যে হারতে না চাওয়ার মানসিকতা থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সম্পূর্ণ সক্ষম।
উপদেষ্টা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়ায় সহিংসতার খবর যতটা গুরুত্ব পায়, তা দমনে সরকারের নেওয়া তাৎক্ষণিক বা দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপগুলো ততটা প্রচার পায় না। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের মতো সফল নির্বাচনেও কিছু অস্থিরতা ছিল, তাই এবারও কিছু অস্থিরতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের উদ্বেগের চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, একেকজন একেকভাবে পরিস্থিতি বিচার করবেন, তবে সরকার নির্বাচনের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতসহ প্রধান দলগুলো সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। তিনি ধারণা করেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ১৯৯১ সালের ৫৫ শতাংশের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের মন্তব্য ও তৎপরতাকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আমাদের সমাজের একটি বড় অংশই চায় তারা কথা বলুক, তাই এ নিয়ে বিদেশিদের দোষ দেওয়া যায় না।
















