ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র; এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান চলাকালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঞ্চে বসা নিয়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।
শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেছেন যে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নির্বাচনকালীন এই সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি অবাধ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে।
















