মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চরম খরা ও ভয়াবহ বন্যার চিত্র তুলে ধরেছে আফ্রিকার জলবায়ু বাস্তবতা। এক প্রতিবেদক পূর্ব আফ্রিকার খরা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যা কাভার করতে গিয়ে জলবায়ু সংকটের ভয়ংকর মানবিক প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে কেনিয়ার মান্দেরা কাউন্টিতে যান ওই প্রতিবেদক। কেনিয়া-সোমালিয়া সীমান্তবর্তী এই এলাকায় তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তেমন নজর ছিল না। শুরুতে বিষয়টি খুব গুরুতর মনে না হলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভয়াবহ।
দূরবর্তী এলাকায় ঢুকতেই দেখা যায় শুকিয়ে যাওয়া নদীর খাত, কৃশকায় উট এবং মৃত গবাদিপশু পুড়িয়ে ফেলার স্থান। স্থানীয় প্রবীণ নেতা আদান মোলু কিকে জানান, গত বছরের জুলাই থেকে পশু মারা যেতে শুরু করেছে এবং তা এখনো চলছে। তিনি খরার তীব্রতা বোঝাতে বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।
রেড ক্রসের একটি দলের সঙ্গে কাজ করার সময় সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উঠে আসে পানির অভাব। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সপ্তাহে এক বা দুইবার ত্রাণ সংস্থার পানি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে মানুষকে। সেই ঘোলা পানি মানুষ ও পশু উভয়কেই ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় পশুপালক মোহাম্মদ হুসেইন জানান, আগে তার একশটির বেশি পশু ছিল, এখন আছে মাত্র বিশটি। ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, আর খরার কারণে আগের রাতেই তার তিনটি ছাগল মারা গেছে। মরুভূমির মতো এই এলাকায় টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় লড়াই।
এই অভিজ্ঞতা শেষ করে দেশে ফেরার পর প্রতিবেদক ভাবেন, আপাতত জলবায়ু বিষয়ক রিপোর্টিং শেষ। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মোজাম্বিকে শুরু হয় টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যা।
কয়েক দিনের মধ্যেই মোজাম্বিকে পাঠানো হয় তাকে। শুরুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তেমন আলোচনা না থাকলেও সেখানে গিয়ে বন্যার ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়। রাজধানী মাপুতোর বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটুসমান নোংরা পানির মধ্যে ডুবে থাকা বাড়িঘর দেখে তিনি হতবাক হন।
এরপর মারাকুয়েনে ও গাজা প্রদেশের সাই সাই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক, টোলগেট, কৃষিজমি ও শহরের বড় অংশ পানির নিচে। দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডুবে আছে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি রিচার্ড সেকেইরা জানান, পানি নামতে সময় লাগবে। অন্তত দেড় থেকে দুই মাস মানুষ ঘরে ফিরতে পারবে না। এর মধ্যে সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকিও রয়েছে।
উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মপুমালাঙ্গা প্রদেশের পরিস্থিতি। সেখানে বাঁধ উপচে পড়ার আশঙ্কায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিচু এলাকার দেশ হিসেবে মোজাম্বিকের দিকে সেই পানি আসবে, যা ইতোমধ্যে প্লাবিত অঞ্চলে নতুন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
পূর্বে চরম খরা ও দক্ষিণে ভয়াবহ বন্যা—এই দুই বিপরীত দুর্যোগ আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব ও নির্মম চিত্র তুলে ধরছে।
















