‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা ইসির; শতাধিক প্রার্থীকে শোকজ ও জরিমানা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই সারাদেশে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইতিমধ্যে শতাধিক প্রার্থীকে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে।
২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রায় সব দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে কর্মীদের ওপর হামলা ও তথ্য চুরির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির কর্মীরা তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। এবি পার্টি বরিশাল ও ফেনীতে তাদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ইসি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে। রাজশা্হী, ময়মনসিংহ ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শোকজ বা সামান্য জরিমানা আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম আরও জোরদার না করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
















