চাঁনখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির স্পষ্ট বার্তা
সরকারের কোনো বেআইনি বা অন্যায় নির্দেশ পালন করতে রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বাধ্য নন—আইনের প্রতি আনুগত্যই সবার প্রথম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজার রায় ঘোষণার পর সোমবার দুপুরে প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই রায়ের বার্তা শুধু পুলিশের জন্য নয়, রাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। কোনো সরকার যদি অন্যায় আদেশ দেয়, তা পালন করা কোনো কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। প্রত্যেককে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং প্রতিটি কাজের জন্য আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বেআইনি কাজ করতে নির্দেশ দিলে সেটি মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, শেষ পর্যন্ত সেই কাজের দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই বহন করতে হবে।
চাঁনখারপুল হত্যা মামলার রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং তিন কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রধান কৌঁসুলি আরও জানান, যাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়েও আদালত নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে দেখা গেছে, যারা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। যারা নির্দেশ দিয়েছে বা নৃশংসতায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাদের ভূমিকা আদালতের পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব পেয়েছে।
ফাঁসির রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপিলের সুযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আইন অনুযায়ীই রায় কার্যকর হবে। ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলবে।















