বিজিএমইএ–বিকেএমইএর আপত্তিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় সরকার
তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের দুই বড় সংগঠনের চাপের মুখে আপাতত সুতার বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে সমন্বয় সভা ডাকছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এই টানাপড়েনের মধ্যে আপাতত সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে সমন্বয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তৈরি পোশাক খাত দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি আয়ের উৎস এবং বস্ত্র খাত সেই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল সরবরাহকারী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব ধরনের সুতা নয়—দেশে বেশি ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলা দিয়ে তৈরি সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের যে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত থাকছে।
পোশাক খাতের দুই প্রভাবশালী সংগঠন—বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ—এর চাপের মুখে সুপারিশটি পুনঃপর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিন সংগঠনের মতবিরোধের কারণে আপাতত নতুন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) বন্ড সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা তাদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলবেন—এটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে দেশীয় বস্ত্র শিল্পের স্বার্থও সরকারকে দেখতে হবে। তিনি বলেন, আপাতত বন্ড সুবিধা বাতিল হচ্ছে না এবং খুব শিগগিরই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএকে নিয়ে সমন্বয় সভা করা হবে।
এদিকে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর সংগঠন বিটিএমএ বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের দাবিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ৪৬০টি মিল সচল রয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পোশাক খাতে বন্ড সুবিধা বজায় রেখে দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে কীভাবে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়েই নতুন নীতিগত প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য বিটিএমএকে প্রশ্নপত্র ও লিখিত সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই পর্যালোচনা শেষ হওয়া কঠিন। বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অর্থনীতির অংশ হয়ে গেছে। নতুন সরকার গঠনের পর তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুধু বন্ড সুবিধা রাখা বা বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ কাঠামোগত সমস্যার সমাধান ছাড়া স্পিনিং মিল ও পোশাক—দুটো খাতই টেকসই হবে না। বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।
















