বাণিজ্যিক রাজধানী গড়তে বিকেন্দ্রীকরণ ও শক্তিশালী নগর শাসনের ওপর জোর
চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নগর সরকার চালু, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি—এমন অভিমত উঠে এসেছে ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর বাইরে আবারও বড় পরিসরে আলোচনা হলো। আবুল খায়ের গ্রুপ, টি কে গ্রুপ ও জিপিএইচ ইস্পাতের সহযোগিতায় এবং প্রথম আলোর আয়োজনে ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক।
বৈঠকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষমতাও সেখানে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে ক্ষেত্রবিশেষে অতিনিয়ন্ত্রণমুক্ত (ডিরেগুলেশন) এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। তাঁর মতে, মেয়রের অধীনে সব সংস্থাকে সমন্বয় করে নগর সরকার চালু না হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শাহাদাত হোসেন বলেন, রাষ্ট্র যদি চট্টগ্রামকে ধারণ না করে, তবে বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৩ সালে একনেক সভায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নগর সরকার ছাড়া শহর পরিচালনা অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিনিধিরা বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কানেকটিভিটি। ঢাকা–চট্টগ্রাম যাতায়াত আড়াই ঘণ্টায় নামিয়ে আনা, রেল ও নদীপথের পূর্ণ ব্যবহার এবং বন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিক হাব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তাঁরা। নদীপথ ব্যবহারে খরচ কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং সড়কের ওপর চাপ কমবে বলেও মত দেন বক্তারা।
মহেশখালী থেকে নোয়াখালী–চাঁদপুর–ভোলা পর্যন্ত একটি কোস্টাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব উঠে আসে বৈঠকে। এতে কম ব্যবহার হওয়া জমিতে শিল্পায়ন হবে, গ্যাস–বিদ্যুৎ–পানির ব্যয় কমবে এবং শহরের ভেতরের চাপ হ্রাস পাবে।পরিকল্পনাবিদ ও শিক্ষাবিদেরা বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী মানে শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়—এটি হতে হবে বাসযোগ্য, সাংস্কৃতিক ও মানবিক নগর। মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ নিশ্চিত না হলে মানুষ ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে না।
বৈঠক থেকে উঠে আসা প্রধান সুপারিশগুলো হলো—
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নগর সরকার চালু
- চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিক ও রিজিওনাল হাব গঠন
- রেল, সড়ক ও নদীপথের সমন্বিত ব্যবহার
- শিল্পায়নের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সহজলভ্যতা
- কোস্টাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর বাস্তবায়ন
আলোচকেরা মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত সিদ্ধান্তই চট্টগ্রামকে দেশের সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে পারে।
















