বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য হতে পারে—এমন ধারণা থেকে দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই আগ্রহের সঙ্গে একটি স্পষ্ট শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রণয়ন বা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অর্ডার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই পোশাক খাতনির্ভর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বন্ধ দরজার বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ওই কূটনীতিক। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আলোচনার একটি রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওই বৈঠকে কূটনীতিক বলেন, তাঁর বিশ্বাস জামায়াতে ইসলামী বাস্তবে শরিয়া আইন চাপিয়ে দিতে পারবে না। তবে যদি তারা এমন উদ্যোগ নেয়, তাহলে পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ শুল্ক আরোপ করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনের নেতাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আনা সম্ভব কি না এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে কি না।
ওই কূটনীতিক আরও সতর্ক করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এসে যদি এমন নীতি গ্রহণ করে যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে নারীদের কাজের সময় সীমিত করা বা কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পোশাক শিল্পে। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার বন্ধ করে দেবে এবং এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কেবল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নয়, বরং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, এসব দলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ রাখা, যাতে কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি আগেভাগে জানানো যায়।
এ বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শি এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল নিয়মিত ও অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠক, যেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















