জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
আগে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা ইউনূসকে সুদখোর, অর্থপাচারকারী, লুটেরা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি তাঁকে দেশের শত্রু উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি শক্তির স্বার্থে পরিচালিত এই পুতুল সরকারকে উৎখাত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বার্তায় শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠিন এই সময়ে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনাকে তিনি ‘খুনে ফ্যাসিবাদী’ শাসনের ফল বলে উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার অভিযোগও তোলেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বাসঘাতকতার পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং দেশকে বহুমুখী সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ এখন এক গভীর সংকটের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, দেশটি রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় পার করছে। তিনি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সব শক্তিকে মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সহিংস গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন। এর মধ্যেই বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
এদিকে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের মে মাসে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
















