মিয়ানমারের সামরিক জান্তার আয়োজিত বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফল এবং এর মাধ্যমে গঠিত যে কোনো ক্ষমতা কাঠামো বিশ্ববাসীকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুজ। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তিনি বলেন, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি সাজানো প্রক্রিয়া।
জাতিসংঘে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যান্ড্রুজ বলেন, দেশের ভেতরে নির্বাচনের ফল কী হবে তা আগেই নির্ধারিত ছিল। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া। তিনি জানান, রবিবার ভোটের শেষ দিনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অ্যান্ড্রুজের ভাষায়, জান্তা সরকার শুরু থেকেই এমন একটি নির্বাচন সাজিয়েছে যাতে তাদের পক্ষে বড় জয় নিশ্চিত হয়। বিরোধী দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে, স্বাধীন গণমাধ্যম দমন করা হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে বেসামরিক মোড়কে উপস্থাপনের চেষ্টা মাত্র। জান্তা নেতৃত্ব আশা করছে, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মহল ক্লান্ত হয়ে এই প্রক্রিয়াকে মেনে নেবে। কিন্তু সরকারগুলোর তা হতে দেওয়া উচিত নয়।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ জানান, ভোটের প্রতিটি ধাপেই ভয়ভীতি, চাপ ও সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় ভোটারদের নজরদারিতে রাখা হয় এবং অংশ না নিলে হুমকি দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মানুষকে জোর করে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে, যখন একই সময়ে সামরিক বিমান গ্রামে গ্রামে হামলা চালাচ্ছিল।
অ্যান্ড্রুজ বলেন, এই ধরনের নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মিয়ানমারের সংকট সমাধানের পথ আরও পিছিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ দেশই এই ভোট পর্যবেক্ষণ বা অনুমোদন করেনি। তিনি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর অবস্থানকেও স্বাগত জানান, যেখানে বলা হয়েছে তারা এই নির্বাচনের ফল স্বীকৃতি দেবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যে রাষ্ট্রগুলো এই ভোটকে সমর্থন করবে, তারা সামরিক জান্তার শাসন বৈধ করার চেষ্টায় অংশীদার হয়ে যাবে। তাই জান্তা ও তাদের সহযোগীদের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে হবে।
অ্যান্ড্রুজ অস্ত্র, বিমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব সম্পদই জান্তার সামরিক কার্যক্রম চালু রাখছে।
শেষে তিনি বলেন, মিয়ানমারের জনগণ সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত জনগণের ইচ্ছায়, কোনো সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়।
















