উত্তরবঙ্গকে ‘বঞ্চিত অঞ্চল’ উল্লেখ করে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেন ১০–দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, “ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই।”
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুমার নামাজের আজানের পর শুরু হওয়া তার বক্তব্য চলে প্রায় ১২ মিনিট।
সমাবেশে তিনি পঞ্চগড়–১ আসনে জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে এই অঞ্চলের সঙ্গে।”
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় যোগানদাতা হলেও এখানকার মানুষ বঞ্চনার শিকার। আগামী দিনে এখান থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বন্ধ চিনিকল চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফেরানোর কথাও জানান তিনি।
উন্নয়নের ভারসাম্য নিয়ে তিনি বলেন, এতদিন “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া” বলা হলেও এখন উন্নয়ন হওয়া উচিত “তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ”। তার মতে, দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
নদীগুলোর দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের নদীগুলো প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। তিনি নদী পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করে বলেন, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য রাজধানী নির্ভরতা কমাতে ৬৪ জেলার প্রতিটিতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। পঞ্চগড়েও একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে পাঁচ বছরের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তার ভাষায়, “এই মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। এই এলাকা পেছনে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”
















