সীমান্তসহ সারা দেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দুই ধাপে একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা ও মিডিয়া কাভারেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপ ২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন-পূর্ব সময়কাল এবং দ্বিতীয় ধাপ ১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সময়কাল।
সারা দেশে বিস্তৃত মোতায়েন
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্বে থাকবে।
ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলা ভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রশিক্ষণ ও জরুরি প্রস্তুতি
নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা
- আচরণবিধি
- পরিস্থিতি মোকাবেলায় রিফ্রেশার ট্রেনিং
প্রশিক্ষণে ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযত, পেশাদার ও আইনসম্মত আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুইক রেসপন্স ও কেএ-৯ ইউনিট
নির্বাচনকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কেএ-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েন থাকবে।
আস্থা বাড়াতে মিডিয়া পরিকল্পনা
বিজিবি জানায়, জনগণের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়, নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলোর যোগাযোগ নম্বর প্রচার এবং জনসচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সমন্বিত নিরাপত্তা প্রস্তুতির ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
















