গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার অব্যাহত রাখার আহ্বান নাহিদ ইসলামের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার মাজার ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ সময় দেশবাসীর প্রতি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী–এর মাজার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শরিফ ওসমান হাদি–এর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
তিন নেতার মাজার জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আবার একটি নির্বাচন ও গণভোটের দিকে এগোচ্ছে। “আজ থেকে সেই যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো,”—বলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে প্রচারণা শুরুর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই এলাকা থেকেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিপাত শুরু হয়েছিল। তাই ঢাকা–৮ আসনকে বেছে নেওয়া হয়েছে এনসিপির নির্বাচনী যাত্রার সূচনাস্থল হিসেবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে কৃষক–শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইভাবে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। “আমরাও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি নতুন বন্দোবস্তের দিকে এগোচ্ছি,”—বলেন তিনি।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদের হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এনসিপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতেই আদায় করা হবে,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে বিজয়ী করার এবং এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানোর জন্য।
পরে দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা–৮ এলাকায় মার্চ ফর জাস্টিস ও গণসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিপির নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়।
















