গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন এবং ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত তথাকথিত শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার নয়টি দেশ। এসব দেশ বলেছে, বোর্ডটির লক্ষ্য গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সমর্থন করা।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, তারা এই শান্তি বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন। পরে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। বোর্ডটির উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে একটি স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হওয়া, যাতে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন হোয়াইট হাউস সম্প্রতি শান্তি বোর্ডের কাঠামো প্রকাশ করেছে। এটি গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ। বোর্ডটির অধীনে একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটি গঠনের কথা রয়েছে, যারা গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে।
তবে গাজাবাসীর একটি অংশ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। চলমান সামরিক হামলা ও মানবিক সহায়তায় বাধার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শান্তি বোর্ডে ইসরায়েলপন্থী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণও উদ্বেগের কারণ। বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি এই ব্যবস্থায় যুক্ত হবেন।
গাজা শহরের এক বাসিন্দা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীই গাজার যুদ্ধের মূল দায়ী। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ তাদের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই বাস্তবতায় নতুন শান্তি উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে গাজা ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে।
















