ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর দাবিতে অনড় বাংলাদেশ; পাশে দাঁড়াল পাকিস্তান
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। তবে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনড় থাকায় চরম সংকটে পড়েছে আইসিসি। এই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পাকিস্তানের অবস্থান। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে।
১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলবে না। পরিবর্তে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। আইসিসি এই দাবি মানতে নারাজ হলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সংকটের মূলে যা রয়েছে:
- মোস্তাফিজ ইস্যু: আইপিএল ২০২৬ থেকে বিসিসিআই-এর নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার শুরু। এর প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে ভারতে দল না পাঠানোর ঘোষণা দেয়।
- পাকিস্তানের আল্টিমেটাম: জিও স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং আইসিসি-কে সতর্ক করেছে যে সমাধান না হলে তারা অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করবে।
- আইসিসি-র ডেডলাইন: আইসিসি বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারি (আগামীকাল) বিকেল ৫টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সময় বেঁধে দিয়েছে। যদি বাংলাদেশ না খেলে, তবে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে নেওয়া হতে পারে।
দুপক্ষের বর্তমান অবস্থান:
| পক্ষ | বর্তমান অবস্থান ও দাবি |
| বাংলাদেশ (BCB) | ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলা অথবা গ্রুপ পরিবর্তন (আয়ারল্যান্ডের জায়গায়)। |
| পাকিস্তান (PCB) | বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন; দাবি না মানলে বিশ্বকাপ বয়কটের প্রচ্ছন্ন হুমকি। |
| আইসিসি (ICC) | সূচি অপরিবর্তিত রাখা; নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে দাবি। |
| আয়ারল্যান্ড (CI) | গ্রুপ বা ভেন্যু পরিবর্তনে অসম্মতি। |
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, রাজস্বের ভাগ হারানোর ভয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত খেলবে। অন্যদিকে, বিসিবি জানিয়েছে সরকার সবুজ সংকেত না দিলে তারা কোনোভাবেই ভারতে দল পাঠাবে না।
















