‘হ্যাঁ’ ভোটে ইউনূস সরকার আরও ছয় মাস থাকবে, এ দাবি ভুয়া বলে জানিয়েছে সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট বিভাগ।
ফ্যাক্ট বিভাগের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অনলাইন কনটেন্টে গণভোট নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই পোস্টটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন।
ফ্যাক্ট বিভাগ জানায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’-এর ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হবে না এবং আরও ছয় মাস ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকবে।
ভিডিওটিতে বলা হয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবেন এবং এই প্রক্রিয়া চলাকালে অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। তবে এই দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট বিভাগ।
ফ্যাক্ট বিভাগ স্পষ্ট করে জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার নয়, বরং নির্বাচিত সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
আদেশের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, সংসদ অধিবেশন শুরুর পর সর্বোচ্চ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংস্কার শেষ হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হবে এবং সংসদ স্বাভাবিক আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ফিরে যাবে।
ফ্যাক্ট বিভাগ জানায়, কোথাও ১৮০ দিন বা ছয় মাস অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকার কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই। বরং সংসদের দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট বিভাগ সবাইকে গণভোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিভ্রান্তিকর তথ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
















