মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আপিল শুনানির ঠিক আগমুহূর্তে ইস্তফা, কারণ স্পষ্ট নয়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আপিল শুনানির আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ক্যাডম্যান তার পদত্যাগের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ক্যাডম্যান এখনো তার পদত্যাগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করেননি।
এমন এক সময়ে এই পদত্যাগের খবর এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার লক্ষ্যে প্রসিকিউশনের করা আপিলটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই আপিলের শুনানি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল–কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। সেই সাজা অপর্যাপ্ত বলে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল দায়ের করেন।
আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয় এবং আপিলের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমা বজায় রাখতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়। গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আবেদন গ্রহণ করে ২০ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো একীভূত করে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথম ভাগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় ভাগে তাদের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ দ্বিতীয় অভিযোগের সাজা বাড়ানোর দাবিতেই এই আপিল করেছে।
টবি ক্যাডম্যানের মতো একজন আন্তর্জাতিক উপদেষ্টার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পদত্যাগ ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—তা নিয়ে আইন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে
















