দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নুবলে ও বিও বিও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ও নৈশকালীন কারফিউ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বনাঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন লোকালয়ে হানা দেওয়ায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমাল রক্ষায় দেশটির নুবলে (Ñuble) ও বিও বিও (Biobío) অঞ্চলে জরুরি অবস্থা বা ‘স্টেট অফ ক্যাটাস্ট্রফি’ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিলির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে চিলির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ২৪টি স্থানে সক্রিয় দাবানল জ্বলছে। রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নুবলে ও বিও বিও অঞ্চলে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। দাবদাহ এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেনকো ও লিরকেন শহর, যেখানকার বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “দাবানল নিয়ন্ত্রণে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।” জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নেভানোর কাজে সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় চলাচল সীমিত করতে নৈশকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিসালদে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা আগুন নেভানোর কাজকে আরও জটিল করে তুলবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেও চিলিতে এক ভয়াবহ দাবানলে ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চিলির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে দাবানলের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা দেশটির জন্য একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















