ইসলামপন্থীদের ‘এক বাক্সে এক ভোট’ নীতির পরিকল্পনা থেকে শেষ মুহূর্তে সরে এসেছে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটে না থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দলটি জানিয়েছে, তারা এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন ও জোট ত্যাগ
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আসন সমঝোতা বা সংখ্যার হিসাব বড় নয়, বরং ইসলামী আন্দোলনের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতেই আমরা এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি জানান, দলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তারা কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধই এই জোট ত্যাগের মূল কারণ। ইসলামী আন্দোলন ৮০টি আসনের দাবিতে অনড় ছিল, যার বিপরীতে জামায়াত তাদের জন্য শুরুতে ৪৫টি এবং পরে ৪৭টি আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাব সম্মানজনক মনে না করায় শেষ পর্যন্ত তারা জোটের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জামায়াত ও ১১-দলীয় ঐক্যের প্রতিক্রিয়া
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতসহ ১০টি দল ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছিল। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল যে তারা জোটে ফিরবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, “এটি কোনো ভাঙন নয়, একটি দল হয়তো নিজেদের ভেতরে আরও বোঝাপড়া করছে।” তবে শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলন সেই প্রত্যাশায় ইতি টেনে দিল।
একক নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামপন্থী ভোটগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ১০-দলীয় জোট এবং অন্যদিকে এককভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা ইসলামী আন্দোলন। ২৬৮ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে ইসলামী আন্দোলন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা দিতে চাইছে। গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ইসলাম কায়েমের রাজনীতিকে আমরা ইবাদত মনে করি, তাই আমাদের মধ্যে কোনো হতাশা নেই।”
আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে ইসলামী আন্দোলন স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো আসন থেকেই প্রার্থী প্রত্যাহার করছে না। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ তৈরি হলো।
















