গোলাগুলি থামলেও মিলছে তাজা বুলেট, সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মিয়ানমার সীমান্তে টানা সংঘর্ষের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফে কান্না ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে; গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও সীমান্ত এলাকায় এখনো মিলছে তাজা গুলি।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেঁচ্ছিব্রিজ এলাকায় কান্না আর ভয় যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর গোলাগুলির শব্দ বন্ধ থাকলেও এলাকায় বিভিন্ন স্থানে এখনো তাজা বুলেট পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আতঙ্কে কৃষকেরা মাঠে যেতে পারছেন না। বন্ধ রয়েছে মাছ ধরার কাজও। সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা-এর বাড়ি ঘিরে চলছে হৃদয়বিদারক কান্না। প্রতিবেশীদের দাবি, হুজাইফাকে সুস্থ করে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরসা-এর তৎপরতা বেড়েছে। ফলে গ্রামটি আরাকান আর্মি-এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সীমান্ত নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় ৯ বছরের শিশু হুজাইফা। প্রথমে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ নামে আরেক বাংলাদেশি নাগরিক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে।
এই সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদী-তে।
সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
















