চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব; ইসিকে এনসিপি মুখপাত্রের কড়া হুঁশিয়ারি
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই তাঁর সহযোদ্ধারা হামলার শিকার হচ্ছেন এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপিল শুনানিতে বড় কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখা গেলে এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তাঁরা রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার ছিনিয়ে নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে বৈঠকে এনসিপি নেতৃত্ব বর্তমান মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে যৌথ অভিযান ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
সন্ত্রাসীদের বিচরণ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন:
- মাঠপর্যায়ে নিস্পৃহতা: “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ধরণের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা থাকা প্রয়োজন ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। সন্ত্রাসীরা জেলের বাইরে থাকলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না।”
- সহযোদ্ধা হত্যা: তিনি উল্লেখ করেন যে, তফসিলের পরদিন এক চিহ্নিত আসামির হাতে তাঁদের একজন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, যা ভোটারদের মনে গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
ইসির প্রতি এনসিপির দাবি
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
১. সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার: এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কালো টাকার মালিকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. নিরপেক্ষ আপিল শুনানি: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানির সময় যেন কোনো বড় দল বা প্রভাবশালী প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা না দেখানো হয়।
৩. প্রশাসনের সংস্কার: গত তিনটি নির্বাচনের মতো যেন প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব বা ‘রাতের ভোটের’ পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত’ নির্বাচনের অঙ্গীকার
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানান, তাঁরা এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টিসহ ‘ফ্যাসিবাদ’ ও জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের অংশগ্রহণ চান না। তিনি বলেন, “আমরা চাই না ফ্যাসিবাদের দোসররা কোনোভাবেই এই নির্বাচনে অংশ নিক।” আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এনসিপি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না বরং রাজপথেই এর ফয়সালা করবে।
উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
















