১৫ লাখ ভোটারের পোস্টাল ভোট; প্রতীক বিন্যাস ও অনিয়ম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর আগেই ‘পোস্টাল ব্যালট’ ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে বিপুল পরিমাণ ব্যালট পেপার একটি ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে গণনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং ব্যালটের প্রতীক বিন্যাস নিয়ে ‘কৌশলগত পক্ষপাতের’ অভিযোগে এই বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভোটারকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখই প্রবাসী। সরকারি চাকরিজীবী, কারাবন্দি ও নির্বাচনী কর্মকর্তারাও এই তালিকায় রয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মূল বিতর্কের জায়গাগুলো:
- বাহরাইন ভিডিও ও অনিয়মের অভিযোগ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাহরাইনে এক ব্যক্তি অনেকগুলো ব্যালট পেপার গুনছেন। বিএনপির অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে এই ব্যালটগুলো ‘হ্যান্ডল’ করা হচ্ছে। তবে ইসি জানিয়েছে, ডাককর্মীদের কাছ থেকে কেউ ব্যালটগুলো সংগ্রহ করে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করায় এমনটি ঘটেছে এবং বর্তমানে দূতাবাস বিষয়টি তদারকি করছে।
- প্রতীক বিন্যাসে ‘কৌশলগত পক্ষপাত’: বিএনপির দাবি, ব্যালট পেপারে কলাম ও সারির বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট কিছু দলের প্রতীক আগে আসে এবং বিএনপির প্রতীক মাঝখানে ঢাকা পড়ে যায়। ইসি অবশ্য জানিয়েছে, বর্ণনানুক্রমিক (Alphabetically) নিয়ম মেনেই এই বিন্যাস করা হয়েছে।
- ফলাফলে প্রভাবের আশঙ্কা: ১৮টি আসনে ১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফেনী-৩ (১৬,০৩৮ ভোট) এবং চট্টগ্রাম-১৫ (১৪,২৭২ ভোট)। ছোট ব্যবধানের জয়ের ক্ষেত্রে এই ভোটগুলো জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
আসনভিত্তিক পোস্টাল ভোটের চিত্র:
| আসন | নিবন্ধিত পোস্টাল ভোট |
| ফেনী-৩ | ১৬,০৩৮ |
| চট্টগ্রাম-১৫ | ১৪,২৭২ |
| কুমিল্লা-১০ | ১৩,৯৩৮ |
| নোয়াখালী-১ | ১৩,৫৯২ |
| নোয়াখালী-৩ | ১২,৭৪৫ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইসি সচিব জানিয়েছেন, গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে এনআইডি (NID) ব্লক করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপসের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে এই ব্যালটগুলো ইসিতে না পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।
















