মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত টিমের দাবি
২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কঠোর অবস্থান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচারে কোনো ধরনের আপস বা কম্প্রোমাইজের সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে শতাব্দীতে একবার ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা, যেখানে ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করার পর তিনি এসব কথা বলেন। ওই দাবিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের জামিন, খালাস বা অব্যাহতি ঠেকানো এবং বিচার দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
গাজী তামীম বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হলো জুলাই–আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। তিনি জানান, এটি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত হলেও প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে শিগগিরই এ দাবি সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও মামলা গ্রহণে প্রস্তুত প্রসিকিউশন। তামীম বলেন, “তারা যদি অভিযোগ নিয়ে আসে, আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করে বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নেবো।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১) আগস্টের মামলাগুলোতে যেন কোনো অপরাধী জামিন বা খালাস না পায়,
২) হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী সব পক্ষকে বিচারিক আওতায় আনা,
৩) দেশব্যাপী তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত দল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
১১ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে প্রসিকিউটর তামীম ব্যাখ্যা দেন, এটি মানবিক কারণে দেওয়া হয়েছে, কারণ অভিযুক্ত গুরুতর অসুস্থ। তবে জামিনের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রসিকিউশনের মতে, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সুযোগ না দিয়ে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই ট্রাইব্যুনালের লক্ষ্য
















