ওয়েলসের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের অংশ হয়ে ওঠা ‘লোনলি ট্রি’ নামের একটি বার্চ গাছ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এরিরি বা স্নোডোনিয়া জাতীয় উদ্যানের লিন প্যাডার্ন হ্রদের ধারে অবস্থিত গাছটি ২০১০ সালের দিকে রোপণ করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়, কখনো পানির মধ্যে আংশিক ডুবে থাকা এই গাছটির দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ও আলোকচিত্রী সেখানে যান। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে গাছটিকে ঘিরে আলাদা ভক্তগোষ্ঠীও গড়ে উঠেছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন সাইঙ্গর গুইনেদ জানিয়েছে, মাটিতে পুষ্টির ঘাটতির কারণে ওই এলাকায় বার্চ গাছের আয়ু তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণত প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত এ ধরনের গাছ টিকে থাকলেও, লোনলি ট্রি যেহেতু নিয়মিত পানির সংস্পর্শে থাকে, তাই এর আয়ু আরও কম হতে পারে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আগামী এক দশকের মধ্যেই গাছটি হারিয়ে যেতে পারে।
আলোকচিত্রী মার্ক লক জানান, এই গাছটি তার ও তার পরিবারের কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটানো, গ্রীষ্মে প্যাডেলবোর্ডিং করা কিংবা বিভিন্ন ঋতুতে ছবি তোলা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, লোনলি ট্রি তার জন্য এক ধরনের মানসিক আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
অনেকেই উত্তর ইংল্যান্ডের হ্যাড্রিয়ানের ওয়ালের পাশে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত সাইকামোর গ্যাপ গাছটির সঙ্গে তুলনা করছেন, যেটি ২০২৩ সালে কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও লোনলি ট্রি ততটা বিখ্যাত নয়, তবুও এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সমান গুরুত্ব বহন করে বলে মত অনেকের।
পর্যটক গ্যাবি গ্রে জানান, গাছটির কারণে তিনি নিজের হাঁটার পথ পরিবর্তন করেছিলেন। তার মতে, পাহাড়ি পটভূমিতে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি এখন একটি প্রতীকী নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাছটি যেহেতু একটি বিশেষ সংরক্ষিত পরিবেশগত এলাকার মধ্যে অবস্থিত, তাই ক্ষয়রোধ বা সংরক্ষণের জন্য কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। দর্শনার্থীদের দূর থেকেই গাছটি উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে আশা করা হচ্ছে, প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও এই ছোট্ট গাছটি আরও কিছু বছর প্রকৃতিপ্রেমীদের আনন্দ দিয়ে যেতে পারবে।
















