যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন অ্যাকশনের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্রিটিশ কর্মী হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ কারাগারে দীর্ঘ অনশনের কারণে মৃত্যুঝুঁকিতে পৌঁছালেও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজন ও বন্ধুরা।
হেবা মুরাইসি টানা ৬৭ দিন এবং কামরান আহমেদ ৬০ দিন ধরে খাবার গ্রহণ করছেন না। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক অনশনে মোট আটজন অংশ নেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনশন ভেঙেছেন। বর্তমানে তৃতীয় অনশনকারী হিসেবে লিউই চিয়ারামেলোও খাবার প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন।
বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী মুরাইসি এখন অত্যন্ত দুর্বল ও শুকিয়ে গেছেন। তিনি শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি ও রক্তের সাদা কণিকা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এবং গত নয় সপ্তাহে তিনবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি।
মুরাইসি ও আহমেদসহ অনশনকারীরা ব্রিস্টলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের কার্যালয় এবং অক্সফোর্ডশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন। তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জামিন, ন্যায়সঙ্গত বিচার, ফিলিস্তিন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুক্তরাজ্যে এলবিটের সব স্থাপনা বন্ধ এবং কারাগারে যোগাযোগ ও পড়ার উপকরণে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া। অনশনকারীদের অভিযোগ, তাদের চিঠিপত্র, ফোনকল ও বই আটকে রাখা হচ্ছে।
কামরান আহমেদের বোন জানান, তার ভাইয়ের ওজন মারাত্মকভাবে কমে গেছে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে ছয়বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিবারের আশঙ্কা, যেকোনো সময় তার মৃত্যু হতে পারে, তবু তিনি অনশন চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লিউই চিয়ারামেলো বিকল্প দিনে খাবার না খেয়ে অনশন করছেন। তার সঙ্গী জানিয়েছেন, এতে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে এবং ডায়াবেটিক কোমার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, অনশনকারীরা এমন এক সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। তারা কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। হাসপাতালেও অনেককে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হচ্ছে, যা চিকিৎসকদের মতে অমানবিক ও অপমানজনক।
আইনজীবীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানালেও কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে অনশন নতুন কিছু নয় এবং প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, সরকারের অনাগ্রহই পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
সমর্থকরা বলছেন, এটি ১৯৮১ সালের ঐতিহাসিক আইরিশ অনশনের পর যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় সমন্বিত কারা অনশন। তাদের মতে, অনশনকারীরা নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ, অথচ রাষ্ট্র তাদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করছে।
















