রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলকে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। এই বিলের আওতায় চীন ও ভারতের মতো দেশও পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর গ্রাহাম বুধবার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি দ্বিদলীয় উদ্যোগকে ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের পর এই সমর্থন মিলেছে।
গ্রাহাম ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।
গ্রাহাম বলেন, এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে প্রেসিডেন্ট Vladimir Putinএর যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে রুশ তেল কেনা বন্ধে উৎসাহিত করতে এই আইন ট্রাম্পকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীন ও ভারত রয়ে গেছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন। একই সময়ে ভারতের ভাগ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর ব্রাজিলও রাশিয়ার কাছ থেকে ভর্তুকিযুক্ত তেল কেনা বাড়িয়েছিল, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি কিছুটা কমেছে।
রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর এই মার্কিন উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইউরোপীয় প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ইউরোপ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে।
তবে রাশিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের সেনা মোতায়েন মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিজের প্রস্তাবিত বিল প্রসঙ্গে গ্রাহাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আইন অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর মতে, ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, কিন্তু পুতিন শুধু কথার আশ্রয় নিয়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যার পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
















