ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolas Maduroকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর দেশটির অর্থনীতি কোন পথে যাবে, তা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তেল বিক্রির আয় ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতধারী দেশ ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে একের পর এক ঘোষণা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার Donald Trump প্রশাসন জানায়, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির নিয়ন্ত্রণ তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য নিজেদের হাতে রাখবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে এত দিন গুদামে পড়ে থাকা ভেনেজুয়েলার তেল ইতোমধ্যে বাজারজাত করা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতের সব তেল বিক্রিও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে বলে তিনি জানান। এসব বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে রাখা হবে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ভাগ করা হবে। তবে কারাকাস ঠিক কতটা অর্থ পাবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।
এর আগের দিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল হস্তান্তর করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে এবং পরবর্তীতে যন্ত্রপাতি ও পুঁজি আমদানির সুযোগও দিতে পারে। এতে নির্দিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে লাইসেন্স দিয়ে বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এসব প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়িত হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল, যা নব্বইয়ের দশকের ৩৫ লাখ ব্যারেলের উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়াতে অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা বাস্তবায়নে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের মতে, মাদুরো অপসারণের পরপরই মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হবে না।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক চাপ পড়তে পারে। দেশটির মোট বাজেটের প্রায় ৭৮ শতাংশ সামাজিক খাতে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। তেল আয়ের অনিশ্চয়তায় এই খাতে অর্থ সংকট দেখা দিলে দ্রুত সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে এবং অসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে তেল আয়ই মূল চাবিকাঠি। তবে সরকার কাঠামোর বৈধতা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত পরিকল্পনা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে মাদুরো অপসারণের পর ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
















