এখনো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি; কোনো গোষ্ঠীর কাছে দেশকে জিম্মি হতে দেব না— ডা. শফিকুর রহমান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সরকারি কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও জুলাই বিপ্লবের অর্জনকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কঠোর বার্তা
বৈঠকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন যে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাঁদের মতে:
- শতভাগ নিরপেক্ষতা জরুরি: নির্বাচন কমিশন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ কোনো দলের তল্পিবাহক না হয়ে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।
- সন্দেহভাজন কর্মকর্তা: প্রশাসনের মধ্যে যারা এখনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। দেড় হাজার শহীদের রক্তে ভেজা এই নতুন বাংলাদেশে অরাজকতার কোনো স্থান নেই। ১. ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া: কোনো ধরনের চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না। ২. আইনশৃঙ্খলার উন্নতি: নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন:
- ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
- বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর প্রভাবে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
















