আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটে অস্থিরতা থাকলেও জামায়াতের দাবি, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের আজকের সংবাদ সম্মেলনের ওপর নির্ভর করছে এই জোটের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব।
১১ দলীয় জোটের টানাপোড়েন: ৪টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ছাড় দিল জামায়াত, আজ ইসলামী আন্দোলনের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন রেখে বাকি ১১০টি আসন শরিক দলগুলোকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে এই প্রস্তাবে বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন প্রাথমিকভাবে ১৫০টি আসনের দাবি করলেও জামায়াত তাদের মাত্র ৪০টি আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে চরমোনাই পীরের দল।
সমঝোতার সম্ভাব্য চিত্র ও শরিকদের হিস্যা
সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত না হলেও জামায়াতের প্রস্তাবিত আসন বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা পাওয়া গেছে:
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৪০টি আসন
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০টি আসন
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১১টি আসন
- এবি পার্টি ও খেলাফত মজলিস: ৩টি করে আসন
- এলডিপি ও বিডিপি: ২টি করে আসন
এছাড়াও নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন ও জাগপার সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে শরিক দলগুলো তাদের প্রার্থীরা প্রায় ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে, যা সমঝোতা চূড়ান্ত হলে প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জোটের স্বার্থে ৪ হেভিওয়েট প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো
নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে জামায়াত তাদের নিজস্ব চারজন শক্তিশালী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে: ১. হবিগঞ্জ-৪: সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের পরিবর্তে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরকে সমর্থন। ২. কুমিল্লা-৪: সাইফুল ইসলাম শহীদের পরিবর্তে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহকে ছাড়। ৩. পঞ্চগড়-১: ইকবাল হোসাইনের পরিবর্তে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে সমর্থন। ৪. সুনামগঞ্জ-২: লড়বেন আইনজীবী শিশির মনির।
শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনি লড়াই
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসন থেকে লড়বেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও ৬ এবং খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু লড়বেন ফেনী-২ আসন থেকে।
















