শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির ৪র্থ দিন; সন্দেহভাজনকে পুলিশের হাতে দিল আন্দোলনকারীরা
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন ‘অস্ত্রসহ’ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্সের সদস্যরা ওই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটক যুবকের নাম মো. আরাফাত জামান (৩৯)। বর্তমানে তাঁকে শাহবাগ থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করে রেখেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | সকাল ০৯:৩০ মিনিট
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে প্রাথমিক তল্লাশিতে উদ্ধারকৃত পিস্তলটি দেখতে আসল মনে হলেও পুলিশ জানিয়েছে, সেটি একটি খেলনা পিস্তল (রেপ্লিকা), যা দেখতে হুবহু বাস্তব অস্ত্রের মতো।
কেন এই অনুপ্রবেশ? রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, খেলনা পিস্তল হলেও একজন ব্যক্তি কেন আন্দোলনের মধ্যে এমন বস্তু নিয়ে প্রবেশ করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা বা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ৪ দফা দাবি শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে গত চারদিন ধরে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনকারীরা তাঁদের ৪টি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন: ১. দ্রুত বিচার: পরিকল্পনাকারী ও আশ্রয়দাতাসহ হাদির খুনিদের বিচার ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ২. ওয়ার্ক পারমিট বাতিল: বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ৩. আন্তর্জাতিক আদালত: ভারত যদি খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকার করে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICJ) মামলা দায়ের করতে হবে। ৪. ফ্যাসিবাদ নির্মূল: সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
শাহবাগের বর্তমান পরিস্থিতি অস্ত্রসহ যুবক আটকের ঘটনার পর শাহবাগ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্ররা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ ধরনের উস্কানিমূলক অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
















