‘শিলিগুড়ি করিডর’ ও ‘সেভেন সিস্টার্স’ পড়বে চরম ঝুঁকিতে; সংঘাত হলে খণ্ড-বিখণ্ড হতে পারে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো
বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের কিছু উগ্রপন্থী রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমে যখন যুদ্ধের দামামা বাজানোর চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই খোদ ভারতের ভেতর থেকেই উঠে আসছে কড়া সতর্কবার্তা। ভারতের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ভারতের জন্য হবে ‘চরম আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত। ভারতের শতবর্ষী সংবাদপত্র ‘মাতৃভূমি’সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা মানেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) চিরস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | বিকেল ০৩:৩০ মিনিট
অনলাইন ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ভারতের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির বিষয়টি বিশদভাবে উঠে এসেছে।
শিলিগুড়ি করিডর ও ভৌগোলিক ফাঁদ
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ রক্ষাকারী ‘চিকেন’স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত সংকীর্ণ। বাংলাদেশে কোনো সংঘাত শুরু হলে এই করিডরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। এছাড়া ত্রিপুরা ও সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকাংশেই বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাদেশে হাত দিলে ভারতের সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি
একজন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশে সংঘাত মানে কেবল সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই নয়, বরং ১৭ কোটি মানুষের একটি জনগোষ্ঠীর মুখোমুখি হওয়া। জনবসতিপূর্ণ এলাকা, অসংখ্য নদ-নদী এবং জটিল ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী চোরাবালিতে পরিণত হবে।”
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকট
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে:
- অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা: যুদ্ধ শুরু হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাতিগত রাজনীতি ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলবে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
- আন্তর্জাতিক চাপ: যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে দ্রুত বহুপাক্ষিক সংকটে রূপ দেবে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হতে পারে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও কূটনীতি
ভারতীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। ফলে সামরিক শক্তির আস্ফালন না করে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই সংকট নিরসন করা ভারতের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ। অন্যথায় ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
















