ভোটের আগে বড় দলে ছোট দলের ভিড়, প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক নৈতিকতা
নির্বাচনের আগমুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে দলবদলের প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভোটের রাজনীতিতে নিজস্ব দল ছেড়ে বড় দলের ছায়ায় জড়ো হওয়ার প্রবণতা এবার আরও স্পষ্ট। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে দল বিলুপ্ত করেও অনেক শীর্ষ নেতা যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। বিএনপির ভাষ্য, এটি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে আদর্শ বিসর্জনের এই ধারা রাজনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়।
ভোটের আগে জোট, নেপথ্যের বোঝাপড়া ও আসন সমঝোতা—এগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত দৃশ্য। তবে এবারের নির্বাচনে বড় দলের প্রতীকে ভোট করার বাধ্যবাধকতা দলবদলকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এর ফলে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ইতোমধ্যে গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, সমমনা বারো দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। একই পথে হাঁটেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও বারো দলীয় জোটের মুখপাত্র সৈয়দ এহসানুল হুদা।
দলবদলের এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, সংসদে গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার আগ্রহ থেকেই অনেক নেতা দলে আসছেন। তরুণ ও মেধাবীদের সংসদে আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদের গুণগত মান বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই নতুনদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। তার মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিভাবান নেতারা সংসদে এলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার এ প্রবণতাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, নীতি-নৈতিকতার বাইরে গিয়ে কেবল ক্ষমতা ও সুবিধা অর্জনের আশায় দল পাল্টানো রাজনীতি নয়। এটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা মাত্র।
তিনি বলেন, বড় দলের প্রতীকে ভোট করার আকাঙ্ক্ষা আদর্শিক বিচ্যুতিরই প্রমাণ। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিকে দুর্বল করে এবং পুরনো দ্বিদলীয় কাঠামোকেই আরও শক্তিশালী করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ভোটের সমীকরণে ছোট দলগুলো বড় দলে বিলীন হয়ে গেলে বহুদলীয় গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বদলে সুবিধাভোগী রাজনীতির বিস্তার হলে সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে রাজনৈতিক দলগুলো—এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।
















