বিশ্ব রাজনীতির অস্থির আকাশে আবারও বজ্রনিনাদ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইউরোপ একসঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ কেবল বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্রের নয়, এটি বহুস্তরীয় চাপ ও অবরোধের যুদ্ধ, যার লক্ষ্য ইরানকে দাঁড়াতে না দেওয়া।
শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমেরিকা ইসরায়েল ও ইউরোপ চায় না ইরান নিজের পায়ে দাঁড়াক। তারা প্রতিনিয়ত নানা পথে দেশটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক আসন্ন।
পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, যদি আবারও ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে আগের চেয়ে আরও কঠোর ও দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে। তার দাবি, সব সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইরানের সামরিক বাহিনী এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী, জনবল ও সরঞ্জামের দিক থেকেও প্রস্তুত।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধ আগের যুদ্ধগুলোর মতো নয়। এটি ইরান ইরাক যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ ও জটিল। শত্রু স্পষ্ট নয়, আঘাত আসে নানা দিক থেকে। অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞা কূটনীতি এবং সামরিক হুমকি একসঙ্গে মিলিয়ে এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই।
ছয় মাস আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সেই হামলায় সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের দাবি, এতে হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়ে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
এই ঘটনার পর থমকে যায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা, যা চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হয়েছিল। একই সময়ে ফ্রান্স জার্মানি ও যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবারও কার্যকর করে, পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা বারো দিনের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। সেই সংঘর্ষের সূচনা হয় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে।
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও তার কঠোর চাপ নীতি চালু করেছেন। এই নীতির আওতায় ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশটির অর্থনীতি দুর্বল করা এবং বৈশ্বিক বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ করা।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার মার আ লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে আরও সামরিক অভিযানের জন্য চাপ দেবেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে তাই শুধু ক্ষোভ নয়, শোনা যাচ্ছে এক অদম্য দৃঢ়তা। তার বার্তা স্পষ্ট, চাপ যতই বাড়ুক, ইরান নত হবে না। এই লড়াইয়ে তারা একা হলেও আত্মসমর্পণের প্রশ্ন নেই।
















