৫ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে আগুন; কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ভস্মীভূত হলেও নেই প্রাণহানি
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এক রাতের ব্যবধানে দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে ৪ নম্বর ক্যাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে বেশ কিছু বসতঘর ভস্মীভূত হয়। শীতের মৌসুমে ঘনঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা পরিচালিত হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে হাসপাতালটির অধিকাংশ সরঞ্জাম পুড়ে যায়।
ওবাট হেলথ পোস্ট ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া ৪ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অবস্থিত ‘ওবাট হেলথ পোস্ট’ হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। এটি স্থানীয় রোহিঙ্গাদের কাছে ‘মালয়েশিয়া হাসপাতাল’ নামে পরিচিত ছিল। ওবাটের হেলথ কো-অর্ডিনেটর ডা. মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী জানান, আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মূল্যবান চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই অগ্নিকাণ্ড
শুক্রবার ভোরের এই ঘটনার মাত্র ৫ ঘণ্টা আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকে আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আগুনে ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, দুটি ঘটনাতেই কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আতঙ্কে শরণার্থীরা
২০১৭ সাল থেকে পরিচালিত এই হাসপাতালটি হাজার হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মানুষের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসাস্থল ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ রফিক জানান, হাসপাতালটি পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চিকিৎসাসেবা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেও কুতুপালং ক্যাম্পে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে গিয়েছিল এবং একজনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
শীতের শুষ্ক মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বারবার এমন আগুনের ঘটনায় নাশকতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ক্যাম্প প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
















