১৭ বছর ৩ মাস পর নির্বাসনের অবসান, এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে ঐতিহাসিক মুহূর্ত
দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর সিলেট হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান। ১৭ বছর ৩ মাসের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সিলেটে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ও নীরব আবেগঘন পরিবেশ।
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | শুক্রবার
সিলেটের আকাশ তখন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। সকাল গড়িয়ে যাচ্ছিল ১০টার দিকে। সব চোখ আকাশে—একটি বিমানের অপেক্ষা। সেই বিমানে করেই দেশে ফিরছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফেরার পথে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে তিনি নামেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বাংলাদেশ বিমানের বিজি–২০২ ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াশা ভেদ করে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, লন্ডন থেকে আসা ওই ফ্লাইটে মোট ২৯৯ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯২ জন যাত্রী সিলেটে নামেন এবং সিলেট থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ৭৩ জন যাত্রী ওঠেন। পরে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
সিলেটে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’ এরপর সিলেটে নামার পর সকাল সাড়ে ১০টায় আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে।’
বিমানবন্দরে অবস্থানকালে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে ছিলেন। ওই মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মোবাইল ফোনে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইট অবতরণকে কেন্দ্র করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাত থেকেই সিলেট মহানগর পুলিশের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ভোররাত থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহলে নামেন। সেনাবাহিনী বিমানবন্দরের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করে। রানওয়ের বাইরের যেসব স্থান থেকে বিমান দেখা যায়, সেসব এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বিমান উড্ডয়নের পর ধীরে ধীরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বিমানবন্দরে জমায়েত না হওয়ার জন্য। সে কারণে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও তাঁরা বিমানবন্দর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেন। দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সিলেটের প্রায় দুই লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি যাত্রাবিরতি নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















