বিশ্ব গড়ের চেয়েও বাংলাদেশে শিশুশ্রমের হার বেশি; পোশাক ও উৎপাদন খাতে শিশুদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি
দারিদ্র্য ও কর্মঘণ্টার চাপে পিষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের শিশুরা। উন্নয়ন সংস্থা ‘এডুকো’র এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দেশে শিশুশ্রমে নিয়োজিত পরিবারগুলোর বড় একটি অংশ চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।
তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনের বৈশ্বিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। উন্নয়ন সংস্থা ‘এডুকো বাংলাদেশ’ এবং ‘চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম’ (ক্ল্যাপ) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু শ্রমিকদের ৬৯ শতাংশ পরিবারই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষক দলের প্রধান আমিনুর রহমান জানান, বাংলাদেশের ৯.২ শতাংশ শিশু শ্রমের সাথে যুক্ত, যা বৈশ্বিক গড় ৭.৮ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।
কঠিন শ্রম ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিশু শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক অংশ (৪৭.৬৮ শতাংশ) সপ্তাহে টানা সাত দিনই হাড়ভাঙা খাটুনি করে। এছাড়া ৪৬.৩৬ শতাংশ শিশু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করতে বাধ্য হয়। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ২৮.৪৮ শতাংশ শিশু পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও উৎপাদনমূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “সরকার বা কোনো সংস্থার একক প্রচেষ্টায় শিশুশ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়। এটি একটি সামষ্টিক কাজ এবং এর জন্য সমন্বিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।” মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আব্দুল ওয়াদুদ উল্লেখ করেন যে, শ্রম আইন ও শিশুশ্রম নিরসন নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের মাঝে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নগরভিত্তিক শিশুশ্রম মোকাবিলায় বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা জরুরি।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, শিশুশ্রম নির্মূল করতে হলে আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শহরে আসা পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।
















