একই ছাতার নিচে ভূমিসেবা আনার লক্ষ্য সরকারের; রিট মামলার জেরে আদালতের স্থগিতাদেশের দাবি কর্মকর্তাদের
আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে (রেজিস্ট্রেশন বিভাগ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তরের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ওঠার কথা রয়েছে।
তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের রেজিস্ট্রেশন বিভাগ বা নিবন্ধন অধিদপ্তরকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের সভার কার্যপত্রের ৩ নম্বর এজেন্ডা হিসেবে এই প্রস্তাবটি রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একই ছাতার নিচে সব ধরণের ভূমিসেবা প্রদান নিশ্চিত করতেই এই দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সারাদেশে সাব-রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আইনি জটিলতা ও ২০০৮ সালের রিট নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং আইনগতভাবে স্থগিত রয়েছে। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একই ধরণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট (নং ২৫১-২০০৮) দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়েছে যে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থানান্তর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তাই বর্তমানে এটি উপদেষ্টা পরিষদে পাশ করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
কেন এই অসন্তোষ? মাঠ পর্যায়ের সাব-রেজিস্ট্রারদের মতে, ভূমি মন্ত্রণালয় বর্তমানে নিজেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে নামজারি বা মিউটেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এমন অবস্থায় রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হলে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরার বদলে ভোগান্তি ও দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
অটোমেশনের পথে বাধা? বর্তমানে ভূমি রেজিস্ট্রেশন সেবা অটোমেশন বা ডিজিটাল করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দেশের ১৭টি অফিসে এটি সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের অভিযোগ, একটি বিশেষ মহল জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাইছে, যা ডিজিটাল উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হবে কি না, নাকি আইনি জটিলতার কারণে তা আবারও ঝুলে যাবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।
















