শ্যামনগরে দিনভর সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে থানায় হস্তান্তর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে চোরাচালান ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চার কুখ্যাত অপরাধী আত্মসমর্পণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চারজন কুখ্যাত অপরাধী আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ১৭ বিজিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালানকারীদের গ্রেপ্তারে বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভেটখালী এলাকা থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও দিনভর সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে তারা শেষ পর্যন্ত কালীগঞ্জ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণকারী চারজনকে শ্যামনগর থানা-তে হস্তান্তর করা হয়। আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে নেদা কয়াল (৩৫), মো. রেজাউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান ও মো. আব্দুর রহিম। তারা সবাই শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বিজিবি সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা গত সাত বছর ধরে অস্ত্রসহ অবৈধ চোরাচালান, মানবপাচার এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজীব বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালান ও মানবপাচার চক্রের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মানবপাচার ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ রোধে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
















