বিশ্বজুড়ে পর্যটনের ধরণ বদলাচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে পরিবেশ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে—এমন গন্তব্য খুঁজছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সেরা ২০টি ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি ট্রাভেল। তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে বিবিসির সাংবাদিক, ভ্রমণ লেখক ও টেকসই পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে।
তালিকায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবি, যেখানে নতুন জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে। আফ্রিকার আলজেরিয়া জায়গা পেয়েছে রোমান ধ্বংসাবশেষ, সাহারা মরুভূমি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগের কারণে। দক্ষিণ আমেরিকার চিলির কোলচাগুয়া ভ্যালি পরিচিত হচ্ছে মদ উৎপাদন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের জন্য।
পলিনেশিয়ান স্বর্গ কুক দ্বীপপুঞ্জে নতুন ফ্লাইট সংযোগ ও সামুদ্রিক সংরক্ষণ উদ্যোগ ভ্রমণ সহজ করবে। মধ্য আমেরিকার কোস্টা রিকা তালিকায় এসেছে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য। ইউরোপের স্কটল্যান্ডের হেব্রিডস দ্বীপপুঞ্জে ঐতিহাসিক স্থাপনা, সাদা বালুর সৈকত ও নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারির কারণে আগ্রহ বাড়ছে।
জাপানের ইশিকাওয়া প্রদেশ ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের কারণে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপপুঞ্জে বিরল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থার কারণে জায়গা করে নিয়েছে তালিকায়। মেক্সিকোর লোরেতো এলাকায় সামুদ্রিক জাতীয় উদ্যান ও স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে।
ইউরোপের নবীন রাষ্ট্র মন্টেনেগ্রো তালিকায় এসেছে কোটর উপসাগর, পাহাড়ি প্রকৃতি ও টেকসই হাইকিং রুটের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন উপকূল এলাকায় পরিবহন সহজীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নজর কেড়েছে। ফিনল্যান্ডের ওউলু শহর ২০২৬ সালের ইউরোপীয় সংস্কৃতি রাজধানী হওয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও সৃজনশীল উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
মার্কিন শহর ফিলাডেলফিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বড় ক্রীড়া আয়োজনের কারণে তালিকায় স্থান পেয়েছে। কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেন নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আধুনিক নগরায়ণ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের মিশ্রণে পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। পর্তুগালের গিমারায়েস ইউরোপের গ্রিন ক্যাপিটাল হওয়ায় টেকসই নগর উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
কেনিয়ার সামবুরু অঞ্চল কম ভিড়, বিরল বন্যপ্রাণী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যটনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের সান্তো ডোমিঙ্গো বড় ক্রীড়া আসর, ঐতিহাসিক সংস্কার ও সংগীত উৎসবের জন্য গুরুত্ব পেয়েছে। কানাডার স্লোকান ভ্যালিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণে নতুন ঐতিহ্য ট্রেইল পর্যটনের সঙ্গে ইতিহাসচর্চার সুযোগ তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার উলুরু এলাকায় আদিবাসী মালিকানার ৪০ বছর পূর্তি ও নতুন হাঁটার পথ চালু হওয়ায় গন্তব্যটি বিশেষভাবে আলোচিত। সবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে তালিকায় এসেছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য।
বিবিসি ট্রাভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গন্তব্যে ভ্রমণ শুধু আনন্দ নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালে দায়িত্বশীল ও অর্থবহ ভ্রমণের খোঁজে থাকা পর্যটকদের জন্য এই তালিকাকে দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















